ডাটা রিডান্ডেন্সি
নিরবচ্ছিন্ন সেবার চাবিকাঠি
বল্টু ভাই কফির মগ হাতে নিয়ে বোঝানো শুরু করলেন, “তোর বিড়ালটিউবের ডাটাগুলোর এখন একটাই কপি আছে, তাই না? মানে একটা সার্ভার ডাউন তো ওই ডাটাগুলোও গায়েব। এই 'সিঙ্গেল পয়েন্ট অফ ফেইলিউর' (Single Point of Failure) দূর করার উপায় হলো ডাটা রিডান্ডেন্সি (Data Redundancy)। সোজা কথায়, একই ডাটার একাধিক কপি ভিন্ন ভিন্ন সার্ভারে বা ডাটাসেন্টারে রাখা।”
মন্টু একটু ভেবে বলল, “বুঝলাম। তার মানে সিস্টেমের ফল্ট টলারেন্স (Fault Tolerance) আর রিলায়েবিলিটি (Reliability) বাড়ানোর জন্য ডাটার ব্যাকআপ রাখার নামই রিডান্ডেন্সি?”
বল্টু ভাই ধমক দিয়ে উঠলেন, “এখানেই তোরা সবচেয়ে বড় ভুলটা করিস! ব্যাকআপ আর রিডান্ডেন্সি এক জিনিস না। ব্যাকআপ হলো ডাটা সেভ করে আলমারিতে তুলে রাখা, যাতে সিস্টেম ক্র্যাশ করলে পরে আবার রিকভার করা যায়। এতে সময় লাগে, ইউজাররা সার্ভিস ডাউন পায়। আর রিডান্ডেন্সি হলো লাইভ সার্ভারের ক্লোন বা 'হট কপি' রাখা। একটা সার্ভার নষ্ট হলে চোখের পলকে সিস্টেম অন্য সুস্থ সার্ভারে রিকোয়েস্ট রাউট করে দেবে। ইউজার টেরও পাবে না যে পেছনে একটা সার্ভার মারা গেছে! এতে তোর সিস্টেমের অ্যাভেইলেবিলিটি (Availability) থাকবে একদম হাই ক্লাস। আবার সিস্টেম আপগ্রেড করতে চাইলেও কোন ডাউনটাইম ছাড়াই একটা একটা করে সার্ভার মেইনটেইনেন্সে পাঠাতে পারবি।”

মন্টু চোখ বড় বড় করে বলল, “আরেহ! এটা তো জোস! তার মানে আমি নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারব। কিন্তু ভাই, আমি কি ঘণ্টায় ঘণ্টায় বসে ডাটা এক সার্ভার থেকে আরেক সার্ভারে ম্যানুয়ালি কপি-পেস্ট করব? কপি করার আগেই যদি ডাটা হারিয়ে যায়?”
বল্টু ভাই হেসে বললেন, “আরে না রে পাগলা! তুই নিজে কেন গাধার খাটুনি খাটবি? এই অটোমেটিক কপি করে ডাটা সিঙ্কে (Sync) রাখার যে জাদুকরি প্রক্রিয়া, তাকেই বলে 'রেপ্লিকেশন' (Replication)। চল, এবার তোকে রেপ্লিকেশনের নাড়িভুঁড়ি বোঝাই।”