নেটওয়ার্কিং প্রোটোকলের গোলকধাঁধা
মন্টু মিয়াঁ লোড ব্যলেন্সার সেটআপ করতে গিয়ে এখন রীতিমতো ঘামছে। কিছুক্ষণ আগেও সে নিজেকে সুপারহিরো ভাবছিল, আর এখন মনে হচ্ছে সে নার্সারির ছাত্র!
AWS-এর কনসোল তার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। সেখানে লেখা: Select Protocol: HTTP / HTTPS / TCP / UDP।
মন্টুর মাথায় হাত! "TCP আবার কী? UDP-র কাজ কী? আমি তো শুধু ভিডিও দেখাতে চাই ভাই! এত প্রোটোকল দিয়ে কী হবে?" মনে মনে নিজের চুল ছিঁড়তে ইচ্ছে করছে তার। ইউনিভার্সিটি লাইফে নেটওয়ার্কিং ক্লাসের পেছনের বেঞ্চে বসে ঘুমানোর পাপ যে এভাবে শোধ দিতে হবে, কে জানত!

উপায় না দেখে সে দৌড় দিল বল্টু ভাইয়ের ডেরায়। বল্টু ভাই তখন আয়েশ করে চা খাচ্ছিলেন। মন্টুর কান্নাজড়িত গলায় সমস্যার কথা শুনে তিনি মুচকি হাসলেন।
— "শোন মন্টু, তুই তো কোডিং শিখছিস, কিন্তু ডেটা কীভাবে এক তার দিয়ে আরেক তারে যায়, সেই রাস্তা তো চিনিস না। বিল্ডিং বানাতে পারিস, কিন্তু রাস্তাঘাট না চিনলে মালপত্র আনবি কীভাবে?"
মন্টু অসহায় মুখে বলল, "ভাই, এখন এত থিওরি পড়ার টাইম নাই। আমাকে শর্টকাটে বোঝান, এই TCP আর UDP-র ভেজালটা কী?"
বল্টু ভাই চায়ের কাপ নামিয়ে রেখে বললেন, "বোঝাচ্ছি। কিন্তু মনে রাখিস, শর্টকাটে ইন্টারভিউ পার করা যায়, কিন্তু ভালো আর্কিটেক্ট হওয়া যায় না। পরে সময় পেলে বলিস, একটা বই সাজেস্ট করবো। এখন খাতা-কলম বের কর।"
প্রোটোকল: ডিজিটাল ভদ্রতা (Etiquette)
বল্টু ভাই শুরু করলেন, "নেটওয়ার্কিং মানেই হলো কথা বলা। এখন তুই যদি জাপানে গিয়ে বাংলায় চিল্লাস, কেউ বুঝবে? বুঝবে না। কথা বলতে হলে দুজনের ভাষা আর গ্রামার এক হতে হবে। কম্পিউটারের দুনিয়ায় এই 'ভাষা ও গ্রামার' কেই বলে প্রোটোকল।"
কম্পিউটার তো শুধু ০ আর ১ বোঝে। এখন এক কম্পিউটার যদি আরেকজনকে এলোমেলো ০ আর ১ পাঠায়, অপরপাশ সেটাকে ভাইরাস ভেবে ব্লক করে দিতে পারে। তাই একটা নির্দিষ্ট নিয়ম বা স্ট্রাকচার মেনে ডেটা পাঠাতে হয়।

তুই চাইলে তোর অ্যাপের জন্য নিজের বানানো 'মন্টু প্রোটোকল' বানাতে পারিস। কিন্তু চাকা নতুন করে আবিষ্কার করার দরকার কী? দুনিয়ার বাঘা বাঘা ইঞ্জিনিয়াররা আমাদের জন্য স্ট্যান্ডার্ড কিছু প্রোটোকল বানিয়ে রেখেছেন। যেমন:
-
ডেটা আসা-যাওয়ার রাস্তার নিয়ম: TCP আর UDP
-
ব্রাউজারে ওয়েবসাইট দেখার নিয়ম: HTTP বা HTTPS
আমাদের কাজ শুধু এগুলোকে ঠিকঠাক ব্যবহার করা।